আখের রসের উপকারিতা ও অপকারিতা
আখের রসের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি অপকারিতা রয়েছে তাই শরীরের অবস্থা বুঝে আখের রস পান করা উচিত। তবে প্রচন্ড গরমে তৃস্না মেটাতে আখের রসের জুরি নেই।
পেজ সূচিপত্রঃআখের রসের উপকারিতা ও অপকারিতা
-
আখের রসের উপকারিতা ও অপকারিতা
-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন
-
শরীরকে সতেজ রাখে
-
লিভারের জন্য উপকারী
-
হজমশক্তি বৃদ্ধি
-
জন্ডিস রোগীর জন্য
-
ক্যানসার থেকে রক্ষা
-
আখের রস খাওয়ার নিয়ম
-
ডায়িবেটিস রোগীদরে জন্য ক্ষতিকর
-
অতিরিক্ত চিনি
-
ফ্যাটি লিভার রোগীদরে জন্য ক্ষতিকর
-
নিম্ন রক্তচাপের ঝুকি
-
ওজন বৃদ্ধি করে
-
রক্ত পাতলা করে ফেলে
-
শেষ কথাঃআখের রসের উপকারিতা ও অপকারিতা
আখের রসের উপকারিতা ও অপকারিতা
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন
আখের রসে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম রক্তনালী শিথিল করে রক্ত প্রবাহ উন্নত করে এবং সুস্থ রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।ফলে মানুষরে ব্লাডপ্রেসার শরীরে ওঠা নামা করে না তাই মানুষের শরীর সুস্থ অবস্থায় থাকে । নিয়মমাফিক খেলে আখের রস আমাদের শরীরের জন্য অবশ্যই উপকারি।আখের রস আমাদের শরীরের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে।শরীরের রক্ত প্রবাহ ঠিক থাকলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
শরীরকে সতেজ রাখে
গরমকালে আখের রস পান করলে শরীর সতেজ থাকে এবং হিট স্টোক ও পানি শুন্যতা রোধ করে। এতে মানুষের শরীর চাঙ্গা থাকে। মানুষ ভালোভাবে প্রয়জোনীয় কাজ করতে পারে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে আখের রসের তুলোনা নেই। গরমে তৃষ্না মেটাতে আখের রস যেমন পিপাসা মেটায় তেমনি শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে থাকে।অনে সময় দেখা যায় মানুষ ক্লান্ত হলে চা বা কফি খেলে ক্লান্তি দূর হয় তেমনি আখের রস খেলে শরীর চাঙ্গা হয়।
লিভারের জন্য উপকারী
পরিমিত পরিমাণে আখের রস খেলে তা লিভারকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। লিভার ভালো থাকলে শরীর ভাল থাকবে এবং সুস্থ থাকবে। তাই আমরা লিভার ভালো রাখতে নিয়মিত আখের রস পান করবো এবং লিভার জন্ডিস থেকে নিজেকে ঝুকি মুক্ত রাখবো।আখের সিজনে দেখা যায় অনেক মানুষের জন্ডিস হয়ে থাকে,এই সময় আখের রস খেলে একদিকে আমাদের লিভার ভালো থাকবে আবার জন্ডিসের জন্য আখের রস অনেক উপকারি।
হজমশক্তি বৃদ্ধি
আখের রসে থাকা প্রাকৃতকি চিনি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে এবং শরীরকে সতেজ করে, যা গরমের ক্লান্তি দুর করতে সহায়ক। শরীর সতেজ থাকলে কাজ বা পড়াশুনা করতে মন বসে। কথায় আছে শরীর চাঙ্গাতো মন চাঙ্গা তাই আখের রস অতুলোনীয়। আখের রস খেলে আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে এই জন্য আখের রস খেলে হজমে কোন সমস্য হয না। আখের রসে থাকা উপাদানসমূহ পাকস্থলিতে গিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে। আমাদের হজমের সমস্য না থাকলে পেট ক্লিয়ার থাকে এবং পেট ব্যথা বা গেস্টিক এর সমস্যা কম হয়।
জন্ডিস রোগীর জন্য
জন্ডিসের রোগীদের আখের রস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় আরোগ্য লাভের জন্য। পানিজাতীয় খাবার আখের রস খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর হয় ও কিডনি ভালো থাকে। জন্ডিস একটি জটিল রোগ যা জন্ডিস থেকে লিভার জন্ডিস হতে পারে।আমাদের দেশে দেখা যায় যে সিজনে যে ফলমূল বা শাক সবজি উৎপাদন হয় সে সময় এমন ধরনের অসুক হয় যা এই সিজনাল ফলমূল বা শাকসবজি খেলে এই ধরনের অসুখ ভালো হয়। জন্ডিস রোগ বেশি দেখা যায় আখের সিজনে আখের রসে যে উপাদান আছে তা জন্ডিসের জন্য অত্যন্ত উপকারি।
ক্যানসার থেকে রক্ষা
আখের রসে ফ্লবোনয়ডে নামক একটি বিশেষ উপাদান আছে যা শরীরে ফ্লবোনয়ড এর মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে ।এই উপাদানটি ক্যানসার থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। তাই ক্যানসার থেকে রক্ষা পেতে আখের রসের তুলনা নেই। তাই চলুন আমরা আখের রস পান করি ক্যানসার থেকে দুরে থাকি।আখের রসে যে ক্যানসার রোধের উপাদান থাকে আমরা অনেকে জানি না আমরা আসলে অনেক কিছু জানি না কোন অসুখে কি ফল বা শবজি খেলে ওষধের থেকে বেশি কাজ করে।এই আমাদের অনেক কিছু জানতে হবে এবং পড়তে হবে।
অন্যান্য
আখের রস আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ,কষ্টকাঠিন্য, ত্তজন কমায়,কিডনি সুস্থ রাখে,কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করে। তাই আমরা নিয়মিত আখের রস পান করতে অভ্যাস করি উক্ত রোগ থেকে জীবন বাচায় ।
আখের রস খাওয়ার নিয়ম
আপনি যদি আখের রস নিয়মিত খেতে চান সেক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে আপনি খালি পেটে খেতে পারেন ।এটি আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করবে, এবং আপনার হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে ।তাই রস খাওয়ার অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে আপনি খালি পেটে আখের রস খাবেন। যে কোন প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত ফলমূল বা শাক সবজি সব কিছুর খাওয়ার নিয়ম থাকে কারন পৃথিবীতে এমন অনেক গাছ আছে যা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয় এই গুলো নিয়ম মেনে খেতে হয় তা না হলে উপকারের চেয়ে অপকার বয়ে আনে।
ডায়াবেটিস রোগীদরে জন্য ক্ষতিকর
আখের রসে প্রচুর পরিমানে চিনি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত। আখের রস অতিরিক্ত পরিমানে খেলে ডায়াবটেিস এর মাত্রা বেড়ে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের অবস্থা অবনতি হবে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের না খাওয়া ভাল।তবে খেতে হবে ডাইবেটিস যদি কন্ট্রোলে থাকে তাহলে পরিমানমত আখের রস খেতে হবে। আখের রস খাওয়া উপকারি কিন্ত কিছু কিছুু ক্ষেত্র্র্রে জটিল হয় যদি এর বিপরিদ কোন অসুখ থাকে।
অতিরিক্ত চিনি
একটি স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০ মিলি আখের রসে প্রায় ৪৩গ্রাম চিনি থাকতে পারে যা দৈনিক গ্রহনযোগ্য মাত্রার বাইরে। আখের রস খেতে হলে আমাদের ২০০ মিলির কম পরিমান খেতে হবে যাতে মাত্রাতিরিক্ত না হয়।যে কোন কিছু মাত্রাতিরিক্ত না খাওয়া ভালো কারন মাত্রাতিরিক্ত খেলে নিজের শরীরের ক্ষতি হবে এই জন্য সব কিছু বুঝেশুনে খেতে হয়,অতিরিক্ত কোন কিছুু ভালো না যাই হোক ডাইবেটিস রোগিদের জন্য একটু চিন্তা করে খেতে হবে যাতে ডাইবেটিস না বাড়ে।
ফ্যাটি লিভার রোগীদরে জন্য ক্ষতিকর
অতিরিক্ত চিনি যকৃতে চর্বি জমা বাড়িয়ে দিতে পারে যা ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। তাই আমাদের যাদের ফ্যাটি লিভার রোগ আছে তারা আখের রস পরিমিত পরিমান পান করতে হবে । আখের রসে চিনির উপাদান থাকে ।
নিম্ন রক্তচাপের ঝুকি
ওজন বৃদ্ধি করে
আখের রসে ক্যালরি এবং চিনি রয়েছে যা নিয়মিত অধিক পরিমানে খেলে আমাদের ওজন বৃদ্ধি পাবে।তাই আখের রস পরিমান মতো খেতে হবে । মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া যাবে না । ওজন বেশি থাকলে আমাদের নিয়মিত ব্যাম করতে হবে।যেহেতু ওজন বৃদ্ধি করে তাই বেশি খাওয়া যাবে না।হ্যা তবে যারা একটু চিকন তারা খেলে তাদের শরীর সাস্থ্য ভালো হবে।এই জন্য বৃদ্ধিতে আখের রস খাওয়া ভালো।তবে মানুষের ওজন তার উচ্চতা অনুযায়ী হতে হবে তা না হলে উচ্চতা অনুযায়ী ওজন কম বা বেশি হলে শরীর সাস্থ্য ভালো হয় না।
রক্ত পাতলা করে ফেলে
আখের রসে রয়েছে পোলিকোসানোল। আপনার শরীরের রক্ত পাতলা করে ফেলতে পারে। সুতারাং আপনি যদি রক্ত পাতলা করার ঔষুধ সেবেন করে থাকেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই আখের রস পান করা পরিহার করতে হবে।খাওয়া যাবে তবে পরিমান মত খেতে হবে। আবার যদি রক্ত পাতলা হওয়ার ওষুধ খান তাহলে বেশি না খাওয়া ভালো।

.jpg)
'https://www.ekralife.com/p/terms.html'
comment url